পদ-পদবি, নেতৃত্ব, পরিচিতি, অর্থ-বিত্ত, মানুষের ভিড়-সব ব্যস্ততা পেছনে ফেলে না ফেরার দেশে মফিজুর চেয়ারম্যান
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

পদ-পদবি, নেতৃত্ব, পরিচিতি, অর্থ-বিত্ত, মানুষের ভিড়-সব ব্যস্ততা পেছনে ফেলে না ফেরার দেশে মফিজুর চেয়ারম্যান
ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন যশোরের শার্শা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মফিজুর রহমান। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
মফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে সহযোগিতার কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত ও আপনজনের মতো।
একসময় যাঁর চারপাশে ছিল মানুষের আনাগোনা, ইউনিয়নের নানা প্রয়োজনে যাঁর কাছে ছুটে আসতেন মানুষ, সেই পরিচিত মুখটি আজ নিথর। মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, নেতৃত্ব ও কর্মময় জীবনের ব্যস্ততা-সবকিছু পেছনে ফেলে তাঁকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে। ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে পরাজিত হলেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে মফিজুর রহমানের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, তাঁর স্নেহ ও সহযোগিতার স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
স্বজনদের কাছে তিনি ছিলেন পরিবারের অভিভাবক, আর পরিচিতজনদের কাছে ছিলেন স্নেহশীল ও আপন মানুষ। তাঁর চলে যাওয়ায় পরিবার হারিয়েছে একজন প্রিয় মানুষ, আর স্থানীয়রা হারিয়েছেন দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাকে। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়-এমনটাই বলছেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
মরহুমের জানাজা শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ধান্যখোলা গ্রামের নিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।
মফিজুর রহমানের মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
জীবনের নির্মম বাস্তবতায় একদিন সবাইকেই ফিরে যেতে হয়। পদ-পদবি, নেতৃত্ব, পরিচিতি, অর্থ-বিত্ত কিংবা মানুষের ভিড়-সবকিছুর ঊর্ধ্বে মৃত্যুর কাছে থেমে যায় জীবনের সব ব্যস্ততা। মফিজুর রহমানও আজ পেছনে ফেলে গেলেন তাঁর কর্মময় জীবনের স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা, সহকর্মীদের শ্রদ্ধা আর অসংখ্য মানুষের শোক।
