বিএসএফের পুশ-ইনে সন্তানসহ বেনাপোল সীমান্তে ভারতের ঝাড়খণ্ডের রেশমা
প্রতিনিধি
কামাল হোসেন:

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ-ইনের শিকার হয়ে এক শিশু সন্তানসহ নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থান করছেন ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বাসিন্দা রেশমা খাতুন।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ-ইনের শিকার হয়ে এক শিশু সন্তানসহ নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থান করছেন ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বাসিন্দা রেশমা খাতুন। গত ৮ জুলাই থেকে তিনি স্থানীয় এক সহৃদয় ব্যক্তির আশ্রয়ে রয়েছেন।
রেশমা খাতুন ঝাড়খণ্ডের পাকুর জেলার মহেশপুর থানার খাগড়া গ্রামের রাজু শেখের স্ত্রী। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি ভারতের মুম্বাইয়ে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
রেশমার অভিযোগ, মুম্বাইয়ে কাজ করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে তাকেও এবং তার শিশুসন্তানকে আটক করে। বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। পরে প্রায় ২৫০ জন আটক ব্যক্তির সঙ্গে বিমানে সীমান্ত এলাকায় এনে রাতের অন্ধকারে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে আনার পর তারা চট্রগ্রাম শহরে যায়। সেখান থেকে স্বামী-সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আশায় তিনি শিশুসন্তানকে নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্টে আসেন।
তার দাবি, ভুলবশত বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাকেও বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
রেশমা বলেন, “আমি ভারতীয় নাগরিক। আমার স্বামী, মেয়েসহ পরিবার ভারতে রয়েছে। আমি শুধু তাদের কাছে ফিরে যেতে চাই। আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত আমাকে ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।”
এসময় ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। জড়ো হতে থাকে বিজিবিসহ বিভিন্ন প্রশাসন ও স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি মানবিক ও স্পর্শকাতর হওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বেনাপোল পোর্ট থানা এবং খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সমন্বয়ে রেশমার পরিচয় যাচাই করে দ্রুত তাকে ভারতে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, আইনি জটিলতা এড়াতে এবং মা-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের দ্রুত কোনো সরকারি বা বেসরকারি শেল্টার হোমে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও স্পর্শকাতর। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।”
এ বিষয়ে বেনাপোল আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
