এইচএসসিতে যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪.৯২%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩২২৮ জন
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

এইচএসসিতে যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪.৯২%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩২২৮ জন
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এ বছর বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪.৯২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫০.২০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৫.২৮ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও।
এবার বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন। তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ফল বিপর্যয় নয়, বরং পরীক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়নের প্রতিফলন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৭০টি কলেজ থেকে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৫ হাজার ১৬৭ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৩০ হাজার ১৯১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৫ হাজার ৩১০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭ জন ছেলে ও ৮৪১ জন মেয়ে। মানবিক বিভাগে ২৬৮ জন ছেলে ও ৮৯৭ জন মেয়ে এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৩ জন ছেলে ও ১৩২ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ বছর বোর্ডের অধীনে মাত্র তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, এবার ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০টি।
শনিবার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ফল বিপর্যয় হয়নি, সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে। আমরা মূলত কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’ ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয়ে পাসের হার কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য পরীক্ষার্থীরা পরদিন থেকে সাত দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবে।
