ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
সারাদেশ

শার্শায় আলিমে পাসের হার ৪৫.৬%, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন

প্রতিনিধি

শহিদুজ্জামান উজ্জল :

শার্শায় আলিমে পাসের হার ৪৫.৬%, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩ জন

যশোরের শার্শা উপজেলায় ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফলে ১২টি মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১১৪ জন।

যশোরের শার্শা উপজেলায় ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ১২টি মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১১৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৩৬ জন। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫.৬০ শতাংশ। আর পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফলাফল বিবরণী বিশ্লেষণে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বাগআঁচড়া ছিদ্দিকীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। বেনাপোল মহিলা আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭০.৫৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। নাভারণ মহিলা আলিম মাদ্রাসা থেকে ১২ জনের মধ্যে আটজন পাস করেছে। পাসের হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। তবে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

অন্যদিকে, বুরুজবাগান ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪৬.৪৩ শতাংশ। বেনাপোল মদিনাতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩০ জনের মধ্যে ১২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪০ শতাংশ। বসতপুর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১২ জনের মধ্যে তিনজন পাস করেছে। পাসের হার ২৫ শতাংশ। সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৪ জনের মধ্যে তিনজন পাস করেছে। পাসের হার ২১.৪৩ শতাংশ।

ধান্যখোলা ডিএস ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৪ জনের মধ্যে ছয়জন পাস করেছে। পাসের হার ৪২.৮৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। গোগা কালিয়ানি আলিম মাদ্রাসা থেকে ২১ জনের মধ্যে সাতজন পাস করেছে। পাসের হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। রহিমপুর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৯ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৭.৯৩ শতাংশ। মহিষা পীর আব্দুস ছোবহান আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৮ জনের মধ্যে আটজন পাস করেছে। পাসের হার ৪৪.৪৪ শতাংশ। বাগআঁচড়া মহিলা আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে মাত্র তিনজন পাস করেছে। পাসের হার ২০ শতাংশ।

ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, উপজেলায় জিপিএ-৫ পাওয়া তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগআঁচড়া ছিদ্দিকীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, ধান্যখোলা ডিএস ফাজিল মাদ্রাসা ও বেনাপোল মহিলা আলিম মাদ্রাসা থেকে একজন করে কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার একেএম নুরুজ্জামান প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলার ১২টি মাদ্রাসার সম্মিলিত ফলাফলে পাসের হার ৪৫.৬০ শতাংশ হলেও অর্ধেকের বেশি পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমুখী ফলাফল মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে পাঠদানের মানোন্নয়ন, নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন