ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সারাদেশ

শার্শায় পরকীয়ায় সংসার ভেঙেও ক্ষান্ত হয়নি, শিশু অপহরণের হুমকিতে মামলা

প্রতিনিধি

কামাল হোসেন:

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শার্শায় পরকীয়ায় সংসার ভেঙেও ক্ষান্ত হয়নি, শিশু অপহরণের হুমকিতে মামলা

শার্শায় পরকীয়ায় সংসার ভেঙেও ক্ষান্ত হয়নি, শিশু অপহরণের হুমকিতে মামলা

যশোরের শার্শায় স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলা তুলে না নিলে ১০ বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণ ও স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থা চেয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নুরুজ্জামান (৩৯) নামে এক ব্যক্তি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি শার্শা থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন।

অভিযোগকারী নুরুজ্জামান যশোর জেলার শার্শা থানার কলেজ রোডস্থ শার্শা গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলার শার্শা থানার শ্যামলাগাছী গ্রামের মৃত জুলফিকার আলীর ছেলে মোঃ বুলবুল হোসেন (৪০) এবং খুলনা জেলার খানজাহান আলী থানার শিরোমনি (মধ্যপাড়া) গ্রামের শেখ ইখলাস উদ্দিনের মেয়ে মোছাঃ ফারহানা পারভীন দুলালী (৩৫)-এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

নুরুজ্জামানের অভিযোগ, তার স্ত্রী ফারহানা পারভীন দুলালী বুলবুল হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে কিছুদিন আগে ১০ বছরের ছেলে নূর আলমকে রেখে অন্যত্র চলে যান। এ ঘটনায় তিনি যশোর আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে সিআর মামলা নং-৩৮৫/২৬, তারিখ ১৯ জুলাই ২০২৬ এবং সিআর মামলা নং-৪৪৯/২৬, তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

অভিযোগে নুরুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, আদালতে মামলা দায়েরের পর থেকেই বুলবুল হোসেনসহ অভিযুক্তরা তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তার ১০ বছরের ছেলেকে তুলে নেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বুলবুল হোসেন নুরুজ্জামানকে সামনে পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আদালতে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। নুরুজ্জামান এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একই সময় তাকে মারধরের জন্যও উদ্যত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

নুরুজ্জামানের দাবি, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর নিজের ও শিশুসন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত ৫ সেপ্টেম্বর শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, নুরুজ্জামানের দাবি, তার স্ত্রী ফারহানা পারভীন দুলালী তার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেন। শার্শা রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রির কাজে যাতায়াতের সূত্রে বুলবুল হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নুরুজ্জামানের অভিযোগ, স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা এবং সমিতি থেকে তোলা আরও দেড় লাখ টাকা নিয়ে যান। এছাড়া তাকে বিশ্বাস করে খুলনার খানজাহান আলী থানার শিরোমণি এলাকায় চার শতক জমির ওপর নির্মিত একটি একতলা বাড়ি স্ত্রীর নামে লিখে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর সম্পত্তি, টাকা ও স্বর্ণালংকার হারিয়ে তিনি আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছেন।

নুরুজ্জামান আরও দাবি করেন, তাকে চাপে রাখতে তার সাবেক স্ত্রী গত ৪ আগস্ট যশোর আদালতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন। তাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই ওই মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নুরুজ্জামান বলেন, “আমি সরলভাবে স্ত্রীকে বিশ্বাস করেছিলাম। সেই সুযোগে আমার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেওয়া হয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব। মামলা করার পরও আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও ন্যায়বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার ও আমার সন্তানের নিরাপত্তা চাই।”

অপরদিকে নুরুজ্জামানের স্ত্রীকে বিয়ে করার কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে আনা পরকীয়া, হুমকি ও সম্পত্তির লোভের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুলবুল হোসেন। তিনি বলেন, “আমি তাকে হুমকি দিয়েছি-এটা সঠিক নয়। তবে আমি তার স্ত্রীকে বিয়ে করেছি। তার সম্পত্তির লোভে নয়, শরিয়া মোতাবেক তাকে বিয়ে করেছি।”

তবে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে ফারহানা পারভীন দুলালীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন