মফস্বলের সাংবাদিক
প্রতিনিধি
শেখ কাজিম উদ্দিন :

পুলকদার শেষ চিঠির কথা মনে পড়ছে। মনে পড়ছে বিভুরঞ্জন সরকারের কথা। আর গতকাল বেনাপোল বন্দরের সামনে দেখা গাজী আনোয়ার ভাইয়ের মলিন মুখটাও চোখের সামনে ভাসছে। একজনের হাতে মৃত্যুর আগে পাওনা টাকার আকুতি।
"মফস্বলের সাংবাদিক"- আয়নার সামনে যে মানুষটাকে সবাই দেখে, আয়নার পেছনে তার জীবনটা কেউ দেখে না
মফস্বলে সাংবাদিকতা করতে এসে একটা বিষয় খুব কাছ থেকে দেখেছি।
আমাদের এখানে শতকরা ৯৯ ভাগ সাংবাদিকের কোনো বেতন নেই।
হ্যাঁ, কথাটা অবিশ্বাস্য শোনাতে পারে। কিন্তু এটাই বাস্তবতা।
অথচ এই সাংবাদিকদের দেখলে মনে হবে-এরা বুঝি ভীষণ ক্ষমতাবান মানুষ!
আমরা যারা খুব অল্প বয়সে সাংবাদিকতায় আসি, তাদের চোখে প্রথম যে দৃশ্যটা ধরা পড়ে, তা হলো একজন সিনিয়র সাংবাদিকের দুঃসাহসী উপস্থিতি।
থানায় গেলে ওসি সাহেব চেয়ার এগিয়ে দেন।
ইউএনও, ডিসি, এসপি, ডিআইজি, সচিব—সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা তাঁকে সম্বোধন করেন।
মন্ত্রী কথা বলেন।
ক্ষমতাবান মানুষ পাশে বসেন।
গুরুত্বপূর্ণ দরজা খুলে যায়।
তখন মনে হয়-
আহা! সাংবাদিক হওয়া মানেই তো ক্ষমতাবান হওয়া!
তখন কে আর আয়নার উল্টো পাশটা দেখে?
একজন সাংবাদিকের পদচারণা কখনো পতিতালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছে যায়-সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষের কাছে তাঁর প্রবেশাধিকার থাকে।
কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির পেছনে, দেওয়ালের সঙ্গে চ্যাপ্টা হয়ে থাকা অন্ধকার জায়গাটায় কী আছে-সেটা কেউ দেখতে চায় না।
সেখানে পড়ে থাকে ধুলো।
ময়লা।
অযত্ন।
অভিমান।
অভাব।
আর কখনো কখনো জমে থাকে এক মানুষের সারাজীবনের না-বলা কান্না।
কদাচিৎ আয়নাটা সরে গেলে আমরা শুধু পেছনের ময়লা দেখে আফসোস করি।
কিন্তু ময়লাটা কেন জমল-সেই প্রশ্ন করি না।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি, একজন মফস্বল সাংবাদিককে প্রায় সবাই নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করেন।
কারও থানায় সমস্যা।
কারও ভূমি অফিসে সমস্যা।
কারও হাসপাতালের সমস্যা।
কারও প্রশাসনিক দপ্তরে কাজ আটকে আছে।
কারও অন্যায় হয়েছে।
কারও সন্তান বিপদে পড়েছে।
সবাই তখন সাংবাদিককে খোঁজেন।
কখনো কলম দিয়ে, কখনো ফোনে, কখনো কথাবার্তায়, কখনো একজন কর্মকর্তার দরজায় গিয়ে-সাংবাদিক তাঁর কাজটা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
দিনের পর দিন।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
কখনো নিজের সম্মান, কখনো নিজের নিরাপত্তা, কখনো নিজের সময়কে ঝুঁকিতে ফেলে।
কাজটা হয়ে গেলে?
পারিশ্রমিক?
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিছুই নেই।
বরং অনেক সময় একটা ‘ধন্যবাদ’ পর্যন্ত জোটে না।
দিনশেষে সেই সাংবাদিক বাড়ি ফেরেন একরাশ ক্লান্তি আর হতাশা নিয়ে।
অথচ তাঁর ছোট্ট সন্তানটা হয়তো সারাদিন অপেক্ষা করেছে-
‘বাবা আসলে আমার জন্য কী এনেছে?’
বাবার পকেটে তখন হয়তো কিছুই নেই।
সারাদিন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য গলা ফাটানো মানুষটি নিজের সন্তানের জন্য এক-দুই টাকার একটা চকলেটও কিনে আনতে পারেন না।
এই দৃশ্যটা কে দেখে?
সাংবাদিকের স্ত্রী কি জানেন না?
জানেন।
সন্তান কি বোঝে না?
একদিন বুঝতে শেখে।
কিন্তু সমাজ?
সমাজ শুধু সাংবাদিকের ফিটফাট পোশাক, হাসিমুখ আর মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা দেখে। সে শিক্ষিত না অশিক্ষিত-তা নিয়ে তামাশা করে।
তারপর খুব সহজেই হিসাব কষে-
‘সাংবাদিকরা তো চাঁদাবাজি করে!’
‘মাসে লাখ লাখ টাকা কামায়!’
‘সাংবাদিক হলেই তো অনেক টাকা!’
কেউ একবারও ভাবে না-
এই মানুষটা সারাদিন এত মানুষের সঙ্গে ঘুরে বেড়াল, এত দরজা খুলল, এত কাজ করল-তার নিজের বাড়িতে আজ বাজার হয়েছে তো?
তার সন্তান কি ভালো স্কুলে পড়ছে?
ভালো কলেজে পড়ছে?
প্রাইভেট শিক্ষক দিতে পারছে?
সন্তানের একটা ভালো পোশাক কিনতে পারছে?
স্ত্রীকে নিয়ে কোনোদিন ভালো রেস্টুরেন্টে খেতে যেতে পারছে?
সমাজের অন্য পরিবারগুলোর মতো তার সন্তানদের শখ-আহ্লাদ পূরণ করতে পারছে?
এই হিসাবটা কয়জন রাখে?
গতকাল, ১১ সেপ্টেম্বর, বেনাপোল স্থলবন্দরের এক নম্বর গেটের সামনে যে দৃশ্যটি দেখলাম, সেটি যেন আমার এতদিনের দেখা বাস্তবতাকে আরও একবার চোখের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।
উস্কোখুস্কো চুল।
মলিন মুখ।
আলখেল্লা দাড়ি।
বিমর্ষ চেহারা।
কয়েকটি আটার প্যাকেট, তেল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য নিয়ে ফেরি করে বিক্রি করছেন প্রবীণ সাংবাদিক গাজী আনোয়ার ভাই।
একসময় দেশের দাপুটে ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ নেশন-এর ডেস্ক রিপোর্টার ছিলেন তিনি। এখনও একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
কিন্তু বয়স যখন ষাটের কাছাকাছি, তখন তাঁর হাতে সাংবাদিকতার কলমের পাশাপাশি জীবিকার জন্য তুলে নিতে হয়েছে ফেরিওয়ালার ঝুলি।
কথা হলো তাঁর সঙ্গে।
কণ্ঠে হতাশা। মুখে ক্লান্তি। চোখে দুশ্চিন্তা।
বললেন-
‘দাদা ভাই, এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া আমার একমাত্র ছেলেটি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই পড়ছে। দুঃখের বিষয়, ছেলেটির সেমিস্টার ফি জোগাড় করতে পারিনি। এ কারণে সে পরীক্ষা দিতে পারছে না। মন খারাপ করে বর্তমানে বাড়িতেই বসে আছে।’
একটু থেমে আবার বললেন-
‘সংসারের অভাব-অনটনের বোঝা বইতে বইতে আমার স্ত্রী এখন ক্যানসারে আক্রান্ত। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। বাড়িতেই পড়ে আছে।’
তারপর মেয়ের কথা।
এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া মেয়েটি শার্শা উপজেলা কলেজে পড়ছে।
‘প্রতিদিন মেয়েটার বাইকভাড়া দিতে হয়। সেই টাকাটাও জোগাড় করতে আমাকে এই ফেরিওয়ালার কাজ করতে হচ্ছে।’
এরপর কিছুক্ষণ চুপ।
তারপর যে কথাটি বললেন, সেটি এখনো কানে বাজছে-
‘তার ওপর সংসার। কোনোভাবেই তো আর চলতে পারছি না। বয়সও প্রায় ষাটের কাছাকাছি। এত দুশ্চিন্তা-না জানি কখন কী হয়!’
একজন প্রবীণ সাংবাদিকের মুখ থেকে কথাগুলো শুনে আমি নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম।
যে মানুষটি একসময় দেশের দাপুটে ইংরেজি পত্রিকার ডেস্কে বসে সংবাদ সম্পাদনা করেছেন, যার সাংবাদিক পরিচয়ের সঙ্গে দেশের সংবাদমাধ্যমের দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে আছে, আজ সেই মানুষটিকেই নিজের সন্তানের পড়াশোনার খরচ আর স্ত্রীর চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আটা, তেল-ডাল বিক্রি করতে হচ্ছে।
এটাই কি সেই সাংবাদিকতার গৌরবময় চেহারা, যেটা আমরা আয়নার সামনে দেখি?
নাকি এটাই আয়নার পেছনের অন্ধকার?
আমি নিজের চোখে দেখেছি-একজন সাংবাদিক সারাদিন রোবটের মতো কৃত্রিম হাসি মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
মানুষের জন্য কাজ করছেন।
নির্যাতিতের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
নিপীড়িতের কথা তুলে ধরছেন।
দেশের উন্নয়নের খবর লিখছেন।
অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভালো সমাজের স্বপ্ন দেখছেন।
অথচ নিজের সন্তানকে সেই সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় করার সামর্থ্যটুকু তাঁর নেই।
এ এক অদ্ভুত বৈপরীত্য!
অন্যের সন্তানকে বাঁচানোর গল্প লিখতে লিখতে নিজের সন্তানের স্বপ্নটা কখন যে ছোট হয়ে যায়-সাংবাদিক নিজেও হয়তো টের পান না।
আর সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো-
মফস্বলের অধিকাংশ সাংবাদিক এই কাজগুলো বেতন ছাড়াই করেন।
জেলা কিংবা জাতীয় পর্যায়ে কিছু প্রতিষ্ঠানে অফিসিয়াল সাংবাদিকদের বেতন আছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই বেতনও এমন নয়, যা দিয়ে একজন সাংবাদিক পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে পারেন।
মফস্বলের সাংবাদিকদের বড় অংশের বাস্তবতা আরও কঠিন।
পরিচয় আছে, দায়িত্ব আছে, ঝুঁকি আছে, কাজ আছে-কিন্তু নিয়মিত বেতন নেই।
তবুও তাঁরা কাজ করেন।
কেন?
কারণ সাংবাদিকতা তাঁদের কাছে শুধু চাকরি নয়।
এটা নেশা।
পড়ন্ত বেলায় এসে কেবল হতাশার।
আর কোনও কাজ করার গতি নেই।
“আছে দুঃসময়ে পত্রিকা বা টিভি অফিসে নতুনদের কাছ থেকে কার্ড বাণিজ্য, অন্যদিকে পুরাতনদের ছাঁটাই হওয়ার ভয়।”
এটা দায়বদ্ধতা।
এটা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক ধরনের অদ্ভুত প্রতিশ্রুতি।
এই জায়গাটাই সবচেয়ে বেশি শোষিত হয়।
যে মানুষটিকে সবাই ক্ষমতাবান মনে করে, সেই মানুষটির নিজের জীবনে অনেক সময় ক্ষমতা বলতে কিছুই থাকে না।
থানার ওসি তাঁকে চেয়ার দেন-কিন্তু সেই চেয়ার থেকে উঠে বাড়ি ফেরার পর সন্তানের স্কুলের বেতন দেওয়ার টাকা থাকে না।
ইউএনও তাঁর সঙ্গে খোশগল্প করেন-কিন্তু নিজের বাড়ির বাজারের হিসাব মেলাতে পারেন না।
মন্ত্রী তাঁকে নাম ধরে ডাকেন-কিন্তু নিজের সন্তানের আবদার পূরণ করতে গিয়ে পকেট হাতড়ে দেখতে হয়।
বাইরে তিনি সাংবাদিক।
বাড়ির ভেতরে তিনি একজন অসহায় বাবা।
একজন চিন্তিত স্বামী।
একজন ঋণগ্রস্ত মানুষ।
এই দুই মানুষকে আমরা কখনো একসঙ্গে দেখি না।
আমরা শুধু আয়নার সামনের মানুষটাকেই দেখি।
আয়নার পেছনের মানুষটাকে নয়।
আর এখানেই পুলক চ্যাটার্জির মতো মৃত্যুগুলো আমাদের থামিয়ে দেয়।
প্রশ্ন করতে বাধ্য করে-
একজন সাংবাদিক মানুষের অধিকার নিয়ে সারাজীবন লিখবেন, অথচ নিজের অধিকার আদায়ের জন্য মৃত্যুর আগে চিঠি লিখে যেতে হবে-এ কেমন সমাজ?
সমকালের সাবেক বরিশাল ব্যুরোপ্রধান পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, সেটিও তাই এড়িয়ে যাওয়ার নয়।
আত্মহত্যার আগে তাঁর লেখা বলে প্রচারিত একটি নোটে সহকর্মীর কাছে নিজের পাওনা টাকা আদায় করে পরিবারের হাতে দেওয়ার অনুরোধের কথা এসেছে।
ঘটনার প্রকৃত সত্য তদন্তেই পরিষ্কার হোক। তাঁর মৃত্যুর কারণ, নোটের সত্যতা-সবকিছু যথাযথভাবে যাচাই হোক।
কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়-
একজন সাংবাদিকের জীবনের শেষ আকুতিও যদি হয় তাঁর পাওনা টাকা পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া, তাহলে আমাদের সংবাদমাধ্যমের ভেতরের মানুষগুলোর দিকে আমরা আর কতদিন তাকাব না?
আমরা বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসের মতো সংবাদ চাই।
কিন্তু সাংবাদিককে দিতে চাই-
যত কম সম্ভব বেতন।
যত বেশি সম্ভব কাজ।
আর যতটা সম্ভব অনিশ্চয়তা।
এটা তো সেই-
গুটি আমের গাছ লাগিয়ে ল্যাংড়া-গোপালভোগের স্বাদ চাওয়ার গল্প!
সাংবাদিকতার মান উন্নত করতে হলে আগে সাংবাদিককে বাঁচতে দিতে হবে।
তাঁর শ্রমের মূল্য দিতে হবে।
নিয়মিত বেতন দিতে হবে।
বকেয়া বেতন আটকে রাখা যাবে না।
চাকরির নিরাপত্তা দিতে হবে।
প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
আর সাংবাদিকতার নেতৃত্বকেও ভাবতে হবে-
নিজেদের চেয়ার, পদ-পদবি, প্রভাব ও সুবিধার চেয়ে সাধারণ সাংবাদিকের জীবন কি সত্যিই ছোট?
কারণ একজন সাংবাদিক যখন অন্যের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন তাঁর নিজের অধিকারটাও কারও না কারও রক্ষা করতে হয়।
নইলে একদিন হয়তো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকটিও আর থাকবে না।
শুধু পড়ে থাকবে-
আয়নার পেছনের অন্ধকার ঘরে জমে থাকা কিছু ধুলো, কিছু ময়লা, কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন আর একটি প্রশ্ন-
‘যে মানুষটা সারাজীবন সবার জন্য লিখল, তার জন্য শেষ পর্যন্ত কে লিখবে?’
পুলকদার শেষ চিঠির কথা মনে পড়ছে।
মনে পড়ছে বিভুরঞ্জন সরকারের কথা।
আর গতকাল বেনাপোল বন্দরের সামনে দেখা গাজী আনোয়ার ভাইয়ের মলিন মুখটাও চোখের সামনে ভাসছে।
একজনের হাতে মৃত্যুর আগে পাওনা টাকার আকুতি।
আরেকজনের হাতে জীবিকার জন্য আটা, তেল-ডালের প্যাকেট।
দুজনের মাঝখানে কেটে গেছে সাংবাদিকতার বহু বছর।
কিন্তু প্রশ্নটা একই-সাংবাদিককে আমরা আসলে কী দিয়েছি?
যাঁরা আজও মফস্বলের অলিগলি ঘুরে খবর করেন, তাঁরা জানেন-এই পেশায় অনেকেরই মাস শেষে নিশ্চিত বেতন নেই। সঞ্চয়ের সুযোগ নেই। অসুস্থ হলে চিকিৎসার নিশ্চয়তা নেই। সন্তান বড় হলে তার শিক্ষার খরচ বহনের নিশ্চয়তা নেই।
তবুও সকাল হলেই তাঁরা বেরিয়ে পড়েন।
মানুষের খবর করতে।
দেশের খবর করতে।
অন্যের কান্না লিখতে।
নিজের কান্নাটা গোপন রেখে।
আমরা আর কতজনকে হারানোর পর বুঝব?
সাংবাদিকের কলমের শক্তি দেখে মুগ্ধ হওয়ার আগে, তাঁর পকেটটা একবার দেখুন।
হয়তো দেখবেন-
কলমটা ভরা কালি দিয়ে,
কিন্তু পকেটটা একেবারে খালি।
আর সেই খালি পকেটের মানুষটিই প্রতিদিন আমাদের সমাজের সবচেয়ে কঠিন সত্যগুলো লিখে চলেছেন।
একদিন হয়তো সেই মানুষটির খবরও লিখতে হবে-
‘অভাবের কাছে হার মানলেন প্রবীণ সাংবাদিক।’
তার আগেই কি আমরা আয়নার পেছনে তাকাব?
নাকি আরেকটি শেষ চিঠির অপেক্ষা করব?
আমার লেখায় অনেকে কস্ট পেতে পারেন, ক্ষমা করে দিয়েন।
লেখক: শেখ কাজিম উদ্দিন
সংবাদকর্মী
দৈনিক স্পন্দন ও দৈনিক ভোরের কাগজ
সভাপতি: বন্দর প্রেসক্লাব, বেনাপোল, যশোর।
