ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
জাতীয়

আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেফতার

প্রতিনিধি

সীমান্তের খবর ডেস্ক:

১৬ মে, ২০২৬
আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেফতার

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা।

তিনি জানান, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বেরোবির সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে ড. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এ মামলায় আদালত দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজনই পুলিশের সাবেক সদস্য। তারা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক রয়েছেন।

এছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারাও পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছর এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাফিউল গ্রেফতার থাকলেও হাফিজুর রহমান পলাতক।

এছাড়া সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়া, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান ও সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই পলাতক।

রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক। এছাড়া সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন ও সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারাও পলাতক রয়েছেন।

মামলার আরেক আসামি চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেন (চন্দন) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি পলাতক রয়েছেন।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহ-সভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারাও পলাতক রয়েছেন।

শেয়ার করুন

আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বেরোবির সাবেক ভিসি গ্রেফতার | সীমান্তের খবর