ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়

দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে

প্রতিনিধি

সীমান্তের খবর ডেস্ক:

১৬ এপ্রিল, ২০২৬
দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে

ইন্টারনেটে চাকরির তথ্য খোঁজেন ৬৪ শতাংশ ব্যবহারকারী

দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে এবং এটি এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে। অনলাইনে প্রবেশ করলেই বিভিন্ন ধরনের তথ্য অনুসন্ধান করা যেন এক ধরনের ‘ডিজিটাল অভ্যাস’। তবে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তারা খোঁজেন, তা হলো চাকরির তথ্য-বিশেষ করে সরকারি চাকরি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ আইসিটি ব্যবহার বিষয়ক জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ তরুণ-তরুণী অনলাইনে চাকরির তথ্য অনুসন্ধান করেন। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্রীড়াবিষয়ক তথ্য, যা খোঁজেন ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী। জরিপে আরও জানা যায়, দেশের ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যা ডিজিটাল নির্ভরতা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অঞ্চলভেদে বৈষম্য এখনও দৃশ্যমান। ঢাকায় ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যেখানে ময়মনসিংহে এই হার মাত্র ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে স্মার্টফোন ব্যবহারে কুমিল্লা এগিয়ে থাকলেও কুড়িগ্রামে এর হার সবচেয়ে কম।

অনলাইনভিত্তিক সেবার ব্যবহারও ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত তিন মাসে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে পণ্য বা সেবা কিনেছেন এবং গত এক বছরে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ অনলাইনে সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন। তবে ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের কাজগুলোই বেশি প্রচলিত-যেমন কপি-পেস্ট করার দক্ষতা রয়েছে ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর।

ডিজিটাল নিরাপত্তার দিক থেকেও কিছু উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে, ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার সংক্রমণের শিকার হয়েছেন, যা সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

প্রযুক্তি ব্যবহারে লিঙ্গ ও অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্যও স্পষ্ট। পুরুষদের মধ্যে মোবাইল ফোন মালিকানার হার ৭০ শতাংশ, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে তা ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। একইভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে পুরুষদের হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারীদের ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। শহরে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ, কিন্তু গ্রামে এই হার ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

পরিবার পর্যায়ে প্রায় ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশের কাছে মোবাইল ফোন থাকলেও ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের এবং কম্পিউটার রয়েছে মাত্র ৯ শতাংশ পরিবারের কাছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়-৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্যবহার করলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং কম্পিউটার ব্যবহার করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।

ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উচ্চমূল্য। ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বেশি দামের কারণে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, মুঠোফোনে রেডিও শোনার প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে টেলিভিশন দেখার হার কমছে। যদিও দেশে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছেছে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবারের কাছে এবং স্মার্টফোন রয়েছে ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারের হাতে, তবুও আইসিটি উন্নয়নে বাংলাদেশ এখনো মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, দেশে ডিজিটাল ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও দক্ষতা, সমতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এখনও অনেক উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন

দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে | সীমান্তের খবর