ইস্টার্ন রিফাইনারি: হাতে থাকা তেল শেষের পথে, উৎপাদনে ধীরগতি
প্রতিনিধি
সীমান্তের খবর ডেস্ক :

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি উৎপাদনের গতি কমিয়ে দিয়েছে। মজুত তেল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাবে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি উৎপাদনের গতি কমিয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মজুত তেল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত এই শোধনাগারটি মূলত সৌদি আরবের ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড’ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মারবান ক্রুড’ পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়েও এসব দেশের তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পারেনি, ফলে উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর অধীন প্রতিষ্ঠান। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, তেল সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যদিও এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করতে হতে পারে। তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো সরবরাহ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি।
প্রথম আলোর সূত্র অনুযায়ী, শোধনাগারটির সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টন হলেও বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য তেলের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। পূর্বের মজুত প্রায় শেষ, এমনকি ‘ডেডস্টক’ থেকেও সীমিত পরিমাণে তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি এসপিএম প্রকল্পের ট্যাংক থেকে কিছু তেল এনে উৎপাদন চালু রাখা হলেও সেটিও শেষের দিকে।
বর্তমানে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু আছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ টন পেট্রল ও ১০০ টন অকটেন উৎপাদন করা হচ্ছে, পাশাপাশি কিছু ডিজেল ও বিটুমিনও উৎপাদিত হচ্ছে। এই মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ উৎপাদন চালানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নির্ধারিত তেলবাহী জাহাজগুলো বিভিন্ন কারণে আটকে গেছে বা চুক্তি বাতিল হয়েছে। বিকল্প হিসেবে অন্য বন্দর থেকে তেল আনার চেষ্টা চলছে, তবে এতে খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই সরাসরি আমদানি করা পরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে রিফাইনারির উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও তাৎক্ষণিক বড় সংকটের সম্ভাবনা কম। তবে দীর্ঘমেয়াদে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি চালান দেশে এসেছে এবং আরও কিছু পথে রয়েছে। পাশাপাশি ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন চুক্তিও করা হয়েছে।
