ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
সারাদেশ

কেশবপুরে জোড়া হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, পরকীয়ার ঘটনা দেখে ফেলায় খুন; গ্রেপ্তার ২

প্রতিনিধি

শহিদুজ্জামান উজ্জল :

কেশবপুরে জোড়া হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, পরকীয়ার ঘটনা দেখে ফেলায় খুন; গ্রেপ্তার ২

যশোরের কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পরকীয়ার ঘটনা দেখে ফেলায় ওই দম্পতিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যশোরের কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পরকীয়ার ঘটনা দেখে ফেলায় ওই দম্পতিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কেশবপুর থানা পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালায়। পরে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত হলে নিহতদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর কেশবপুর থানা পুলিশের একটি দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোস্তফা কামালকেও আটক করা হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, জেসমিন ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে একসঙ্গে কাজ করতেন। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষে বস্তা ও কাঁচি নিয়ে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন। এ সময় মাঠে মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলাম জমিতে ঘাস লাগানোর কাজ করছিলেন। পাশের জমিতে ফুলকপির চারা রোপণ করছিলেন মোস্তফা কামাল। পুলিশের দাবি, মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। সেদিন তাঁদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি মাজেদা দেখে ফেলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জেসমিন ও মোস্তফা মাজেদা ও তাঁর স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। কলমিশাক তোলার কথা বলে তাঁদের ঘেরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তালতলার ভেড়ির কাছে মোস্তফা তাঁর হাতে থাকা পাসনি দিয়ে আলেক নুর ইসলামের বগলের নিচে ও মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁকে পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি সেখান থেকে উঠতে পারেননি।

অন্যদিকে, জেসমিন মাজেদার ওড়না দিয়ে তাঁর গলায় ফাঁস দেন। পরে নিঃশ্বাস চলতে দেখে কাঁচি দিয়ে তাঁর তলপেট ও পায়ে আঘাত করেন। মোস্তফাও তাঁর পায়ে কোপ দেন। এরপর তাঁকে সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যার পর ব্যবহৃত কাঁচিটি ঘেরের পানিতে ধুয়ে ফেলা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়া এলাকার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী ও খোদার আলী সরদারের মেয়ে। অপর আসামি মোস্তফা কামাল একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে।

কেশবপুর থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পুলিশি প্রহরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন