ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত বাংলাদেশি ২৭, নিহত ২

প্রতিনিধি

সীমান্তের খবর ডেস্ক:

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত বাংলাদেশি ২৭, নিহত ২

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত বাংলাদেশি ২৭, নিহত ২

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। অন্য ১৫ জন রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৬ জন ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রী।

স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় মোট ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হয়েছেন।

নিহত দুই বাংলাদেশির একজন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মেদ। তিনি রিয়াদের সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অপর নিহত ব্যক্তি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে যাওয়া নাসরুল্লাহ রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা

রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতাল:

নওগাঁর সাফফাত রহমান বর্তমানে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। ওমরাহ যাত্রী সাফফাতের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। হামলায় তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে এবং ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুমিল্লার মো. দাউদুল ইসলাম। তার ডান পায়ের হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত হলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।

রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতাল:

ঢাকার ওমরাহ যাত্রী মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভের অবস্থা গুরুতর। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তার বাম পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অস্ত্রোপচার করে পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছেন।

এ হাসপাতালে ঢাকার আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দিনও চিকিৎসাধীন। তার দুই পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল:

ঢাকার মো. আবদুল্লাহ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার দুই পা ভেঙে গেছে এবং ডান পায়ে রড লাগানো হয়েছে। বুকের ডান পাশে দগ্ধ হয়েছে। মুখ দিয়ে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। গোড়ালিতে আরও একটি অস্ত্রোপচার করার কথা রয়েছে।

সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল, তাখাসসুসি শাখা:

ঢাকার আরমান হোসেনের পা ও বাম হাতের কনুইয়ে কাচের টুকরো ঢুকে যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো বের করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

ময়মনসিংহের মো. মাসুদের হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত অংশের মাংস ঝলসে গেছে। তার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

সুলাইমান ফকিহ হাসপাতাল:

যশোরের নাজমা আক্তারের বুকের বাম পাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ভাঙা অংশ ঢুকে যায়। অস্ত্রোপচার করে সেটি বের করা হয়েছে। আঘাত গুরুতর হওয়ায় সুস্থ হতে সময় লাগবে।

মায়ের সঙ্গে ওমরাহ করতে যাওয়া একই জেলার মাহফুজও এ হাসপাতালে রয়েছেন। তার হাত, বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে সামান্য আঘাত রয়েছে। তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং আহত মায়ের পাশে রয়েছেন।

এস্টার সনদ হাসপাতাল:

গাজীপুরের মো. ইমাদুল ইসলাম উরুতে আঘাত পেয়েছেন। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেতে পারেন।

নড়াইলের মো. জামাল উদ্দিনের চোখের নিচে ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ছোট ভাঙা অংশ ঢুকে যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়েছে। তিনিও দু-এক দিনের মধ্যে হাসপাতাল ছাড়তে পারেন।

আরও কয়েকজন আশঙ্কামুক্ত

কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজী নূরুল্লাহর ডান হাতের আঙুল ও দুই পা আগুনে ঝলসে গেছে। অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

নোয়াখালীর মো. ওমর ফারুকের দুই পা ও ডান হাতের মাংস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অস্ত্রোপচার ও সেলাইয়ের পর তিনিও আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

সিলেটের ফয়েজ আহমদ নাঈমের মাথা, হাত ও পায়ে কাচের টুকরো ঢুকে যায়। সেলাই দেওয়ার পর তার অবস্থাও আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধার মো. রফিক মিঞা মাথায় আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসার পর তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১২ জন

হামলায় আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে বাসা বা হোটেলে ফিরেছেন ১২ বাংলাদেশি। তারা হলেন, হাফেজ হাসান (ঢাকা), মোহাম্মদ, ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক (ঢাকা), ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হিরক, মো. রায়হান ইসলাম (ভোলা), সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন (নোয়াখালী), মোশাহিদ আহমেদ সৈকত (সিলেট), জাহিদ আহমদ (নোয়াখালী), সোবহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার এবং উমায়ের (চাঁদপুর)।

আটকে পড়াদের জন্য দূতাবাসের ব্যবস্থা

হামলার পর বিমানবন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদের মধ্যে ১৭ জনকে ম্যারিয়ট হোটেল, ২৫ জনকে রেডিসন ব্লু এবং ৪০ জনকে রিয়াদ প্রিমিয়ার ফান্ডাসিয়ালের ডরমিটরিতে থাকার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

এ ছাড়া রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইট এসভি-৮০৪-এ প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীর দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব যাত্রী হামলার ঘটনায় পাসপোর্ট হারিয়েছেন, তাদের জরুরি ট্রাভেল পারমিটও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

শেয়ার করুন