বেনাপোল বন্দরে পণ্যচালান আটকে হয়রানির দাবি সিএন্ডএফ এজেন্টের, কাস্টমস বলছে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালান আটক করে পরীক্ষণ চলছে
প্রতিনিধি
কামাল হোসেন:

বেনাপোল বন্দরে পণ্যচালান আটকে হয়রানির দাবি সিএন্ডএফ এজেন্টের, কাস্টমস বলছে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালান আটক করে পরীক্ষণ চলছে
বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি করা পণ্যচালান কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটকে রেখে কার্টন কেটে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান আমিন উদ্দিন ট্রেডার্স। এতে আমদানিকারকের কাছে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং কাজের সুযোগ সংকুচিত করে কর্মবঞ্চিত করার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেনাপোল বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যচালানের আমদানি নথি ও প্যাকিং লিস্ট পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া যায়। নথি অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাওল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল থেকে ঢাকার আহমেদ ট্রেডার্সের নামে চালানটি পাঠানো হয়েছে। পণ্যচালানটির গন্তব্য বাংলাদেশ এবং খালাসের বন্দর হিসেবে বেনাপোলের নাম উল্লেখ রয়েছে। পণ্যের উৎপত্তিস্থল ভারত।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের প্যাকিং লিস্ট অনুযায়ী, চালানটিতে মোট ৫৭৯ প্যাকেজ পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনথেটিক ফেব্রিকস, আর্টিফিশিয়াল ফ্লাওয়ার, ক্যাপাসিটর, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট আনকোটেড, চুমকি-পুঁতি মালা (প্লাস্টিক), চিরুনি, গ্লাস বিডস, হার্ডওয়্যার ব্রাশ, প্রিন্টিং ইঙ্ক, ইনভার্টার (আইপিএস), আয়রন বার, জুয়েলারি পার্টস, জুট মিল পার্টস, কিচেনওয়্যার, লেস, নিট ফেব্রিকস, রেজিন, স্পেয়ার পার্টস (পেপার কোন), স্পোর্টস গুডস (প্যাড ও গ্লাভস) ও জিংক ইনগটসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।
নথিতে চালানটির নিট ওজন ২৮ হাজার ৩৩০ দশমিক ১০ কেজি এবং গ্রস ওজন ৩০ হাজার ৪৫৬ দশমিক ১০ কেজি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইনভয়েসের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর এবং প্যাকিং লিস্টের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।
সিএন্ডএফ এজেন্ট আমিন উদ্দিন ট্রেডার্সের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পণ্যচালান ছাড়করণের দায়িত্ব পালন করা হলেও কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা ত্রুটি দেখানো ছাড়াই চালানটি আটকে কার্টন কাটা হচ্ছে। এতে পণ্যের প্যাকেজিং নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আমদানিকারকের কাছে তাদের জবাবদিহির মুখে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি তাদের।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমদানিকারক তাদের ওপর পণ্য খালাসের দায়িত্ব দিয়েছেন। ভারত থেকে চালানটি বেনাপোল বন্দরে পৌঁছানোর পর কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সরফুদ্দিন মিঞা দিনের পর দিন এটি আটকে রেখে অহেতুক হয়রানি করছেন।
তবে বেনাপোল কাস্টম হাউস ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আমদানি করা পণ্যের সঙ্গে ঘোষণা বহির্ভূত ও অতিরিক্ত পণ্য আনা হয়েছে-এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বেনাপোল বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে রাখা চালানটি সাময়িকভাবে আটক করা হয়। বর্তমানে চালানটির পরীক্ষণ চলছে। পরীক্ষণ শেষ হলে এতে কত পরিমাণ ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য রয়েছে বা আদৌ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের এক কর্মকর্তা বলেন, বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে কেউ যাতে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য বের করে নিতে না পারে, সে বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। অতীতে এ বন্দর দিয়ে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি, শুল্ক ফাঁকি ও নানা ধরনের কারসাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব রোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।
