ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
সারাদেশ

বেনাপোল বন্দরে ভারী যন্ত্রাংশ বুকে পড়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্রমিক

প্রতিনিধি

কামাল হোসেন:

৩০ আগস্ট, ২০২৬
বেনাপোল বন্দরে ভারী যন্ত্রাংশ বুকে পড়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্রমিক

বেনাপোল বন্দরে ভারী যন্ত্রাংশ বুকে পড়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শ্রমিক

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে ফর্কলিফটের মাধ্যমে পণ্য লোড করার সময় ভারী যন্ত্রাংশ বুকে পড়ে আক্তারুল ইসলাম (৫০) নামে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৯ নম্বর সেডের অভ্যন্তরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত আক্তারুল ইসলাম বেনাপোল পোর্ট থানার রঘুনাথপুর গ্রামের বাকের আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৯২৫) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ফর্কলিফটের সাহায্যে একটি ফিল্ম ট্রাকে মালামাল লোড করা হচ্ছিল। এ সময় ফর্কলিফট থেকে একটি ভারী যন্ত্রাংশ স্লিপ করে আক্তারুল ইসলামের বুকের ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাভারণে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ এর সভাপতি তবিবুর রহমান তবি ও সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শ্রমিক আক্তারুল ইসলামকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর।

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু বন্দরের অভ্যন্তরে উন্নত চিকিৎসাসেবা ও জরুরি স্বাস্থ্যব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় নাভারণ কিংবা যশোরের হাসপাতালে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর যানজট পেরিয়ে দূরের হাসপাতালে নিতে গিয়ে অনেক সময় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। অতীতেও দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় পথেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

তাদের প্রশ্ন, আর কত দুর্ঘটনাকবলিত শ্রমিককে জরুরি চিকিৎসার জন্য ১৪ থেকে ৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যশোরে নিতে হবে? বন্দর এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বেনাপোল স্থলবন্দরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও দাবি, বন্দরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন