শার্শায় দাখিল পাসের হার ৪০.৮৬ শতাংশ; ২ মাদ্রাসায় কেউ পাস করেনি
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

শার্শায় দাখিল পাসের হার ৪০.৮৬ শতাংশ; ২ মাদ্রাসায় কেউ পাস করেনি
যশোরের শার্শা উপজেলায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। উপজেলার ৩৩টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৮৩৭ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৮১২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৩৪২ জন এবং ফেল করেছে ৪৭৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। ফলাফলে পাসের হারের দিক থেকে প্রথম বাগআঁচড়া ছিদ্দিকীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, দ্বিতীয় মহিষা পীর আব্দুস ছোবহান আলিম মাদ্রাসা ও তৃতীয় হয়েছে বেনাপোল মদিনাতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা।
শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগআঁচড়া ছিদ্দিকীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৫৬ জন পরীক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৭ জন পাস করেছে। ফলাফলে পাসের হার ৮৪ শতাংশ।
পাসের হারের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মহিষা পীর আব্দুস ছোবহান আলিম মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানের ২৬ জন পরীক্ষার্থীই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বেনাপোল মদিনাতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা। এখানে ৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৮ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬২ দশমিক ২২ শতাংশ। এ মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এরপর রহিমপুর আলিম মাদ্রাসায় ৩১ জনের মধ্যে ১৮ জন পাস করেছে, পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ। সোনানদিয়া গাতিপাড়া দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় ২৪ জনের মধ্যে ১৪ জন পাস করেছে, হার ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ। বেনাপোল মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ৩৩ জনের মধ্যে ১৯ জন পাস করেছে, হার ৫৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বসতপুর ফাজিল মাদ্রাসায় ২৬ জনের মধ্যে ১৫ জন এবং সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ২৬ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছে; উভয় প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
নাভারণ মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছে, হার ৫৬ শতাংশ। গোকর্ন সাড়াতলা দাখিল মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করেছে, হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাঁলুন্ডা আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১৬ জন পরিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৮জন ও টেংরা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ২০ জন পরিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ১০ জন। এ দুটি মাদ্রাসার পাসের হার ৫০ শতাংশ করে।
এ ছাড়া পাঁচভুলাট দাখিল মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করেছে, হার ৪৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। গোপালপুর ইছাপুর আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০ জনের মধ্যে ৯ জন পাস করেছে, হার ৪৫ শতাংশ। লাউতাড়া রাবেয়াতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ১২ জনের মধ্যে ৫ জন পাস করেছে, হার ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গোগা কালিয়ানি আলিম মাদ্রাসায় ৩২ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করেছে, হার ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ।
লক্ষণপুর দারুল হাদিস দাখিল মাদ্রাসায় ১৭ জনের মধ্যে ৭ জন পাস করেছে, হার ৩৯ শতাংশ। নিশ্চিন্তপুর দাখিল মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে ৮ জন পাস করেছে, হার ৩৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। শার্শা দাখিল মাদ্রাসায় ২৮ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করেছে, হার ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। শিকড়ী মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ৩২ জনের মধ্যে ১১ জন পাস করেছে, হার ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ধান্যখোলা ডি. এস. ফাজিল মাদ্রাসায় ৩২ জনের মধ্যে ১০ জন পাস করেছে, হার ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাহাদুরপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ৪ জনের মধ্যে একজন পাস করেছে, হার ২৫ শতাংশ। বুরুজবাগান ফাজিল মাদ্রাসায় ৩০ জনের মধ্যে ৬ জন পাস করেছে, হার ২০ শতাংশ। কন্যাদাহ দাখিল মাদ্রাসায় ৩৫ জনের মধ্যে ৭ জন পাস করেছে, হার ২০ শতাংশ। বাগআঁচড়া মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ১৬ জনের মধ্যে ৩ জন পাস করেছে, হার ১৯ শতাংশ। কায়বা বাইকোলা ওসমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২১ জনের মধ্যে ৪ জন পাস করেছে, হার ১৯ দশমিক ০৫ শতাংশ।
অন্যদিকে ফলাফলে সবচেয়ে হতাশাজনক অবস্থায় রয়েছে দুটি মাদ্রাসা। বাগআঁচড়া সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। একইভাবে ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ উপজেলায় মোট ২টি মাদ্রাসায় পাসের হার শূন্য।
এ ছাড়া আমলাই মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২৩ জনের মধ্যে মাত্র একজন, রাজাপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১১ জনের মধ্যে একজন এবং কন্দপুর দারুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসায় ৮ জনের মধ্যে একজন পাস করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার যথাক্রমে ৪ শতাংশ, ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
সব মিলিয়ে শার্শা উপজেলার ৩৩টি মাদ্রাসা থেকে ৮১২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৪২ জন পাস করেছে। অকৃতকার্য হয়েছে ৪৭৫ জন। সার্বিক পাসের হার ৪০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
ফলাফলের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত) এস.এম. সুলতান মাহমুদ।
