ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
সারাদেশ

বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে ট্রাভেল পারমিটে ফেরত এলেন ৫ বাংলাদেশি নারী

প্রতিনিধি

শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

২৮ জুলাই, ২০২৬
বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে ট্রাভেল পারমিটে ফেরত এলেন ৫ বাংলাদেশি নারী

বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে ট্রাভেল পারমিটে ফেরত এলেন ৫ বাংলাদেশি নারী

ভারতে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হয়ে সাজাভোগ শেষে পাঁচ বাংলাদেশি নারী দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় ভারতের পেট্রাপোল-হরিদাসপুর ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদেরকে বাংলাদেশের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ সময় দুই দেশের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাসহ বিজিবি, বিএসএফ ও বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

হস্তান্তর-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, মুম্বাইস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিট এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) কর্তৃক প্রদত্ত ‘লিভ ইন্ডিয়া’ নোটিশের ভিত্তিতে হরিদাসপুর আইসিপি ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

ফেরত আসা নারীরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের শিমু আক্তার ও শারমিন খাতুন, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভেড়াদাকরী গ্রামের পাপিয়া আক্তার ওরফে প্রিয়া পিন্ট মিস্ত্রি, যশোরের অভয়নগর উপজেলার কোটা গ্রামের লাভলী খাতুন এবং নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পার বিষ্ণুপুর গ্রামের রোজিনা।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় মানবাধিকার ও আইনি সহায়তাকারী সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা নারীরা বিভিন্ন সময়ে ভালো চাকুরির আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ সীমান্ত পথে ভারতে যায়। পরে সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হলে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। অধিকাংশদের ২ থেকে ৩ বছর সাজাভোগ শেষে সেদেশের মানবাধিকার সংস্থা নিজেদের জিম্মায় নিয়ে শেল্টার হোমে রাখে। পরে দু-দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালির একপর্যায়ে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হলে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তারা দেশে ফিরেছে। এসকল নারীদের নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাদের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার।

শেয়ার করুন