বেনাপোল কাস্টমসকে ব্যবসাবান্ধব হওয়ার তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর “ছোটখাটো বিষয়ে হয়রানি না করে রাজস্ব ও বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান”
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

বেনাপোল কাস্টমসকে ব্যবসাবান্ধব হওয়ার তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর “ছোটখাটো বিষয়ে হয়রানি না করে রাজস্ব ও বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান”
বেনাপোল কাস্টমস হাউস সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় উৎস উল্লেখ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেছেন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে কাস্টমসকে আরও ব্যবসাবান্ধব ও কার্যকর হতে হবে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের হয়রানি না করে রাজস্ব আদায় ও ব্যবসার পরিমাণ বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ৪টার সময় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ইছামতি সম্মেলন কক্ষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল, সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করার লক্ষ্যে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউস সরকারের রাজস্বের জন্য একটি বড় জায়গা। এজন্য এই বন্দরের প্রতি আমাদের দায়িত্বও অনেক বেশি। আমরা সত্যিকার অর্থেই বেনাপোল বন্দরের রেভিনিউ (রাজস্ব) বাড়াতে চাই। এজন্য কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা প্রয়োজন। কাস্টমস সঠিক সেবা দিয়ে সহযোগিতা করলে সরকারও এই বন্দরকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা দিতে এবং এখানে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, এইচএসকোড সংক্রান্ত যেসব ছোটখাটো বিষয় মানুষের কোনো উপকারে আসছে না, সেগুলো নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করার কোনও প্রয়োজন নেই। এসব কারণে মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও কাস্টমসকে নজর দিতে হবে। কাস্টমস চাইলে অনেককেই আটকাতে পারে। কিন্তু এখন আইনের যুগ, আমরা অনেক বেশি অনলাইনভিত্তিক হয়েছি। তাই সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেনাপোল বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবসার পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে নানা ঘটনায় এই বন্দরের রাজস্ব আয় অনেক পিছিয়ে গেছে। এখন কীভাবে তা পুনরুদ্ধার করা যায় এবং ব্যবসার পরিমাণ বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে আমদানিকারকদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ব্যবসায় উৎসাহিত করা গেলে সরকার নির্ধারিত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বেনাপোল বন্দরে ব্যবসায়ীরা যেন হয়রানির শিকার না হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা চাইলে অনেক কিছুই করতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য হবে ব্যবসা বাড়ানো এবং একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করা।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি এমপি, মন্ত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কাজে লাগিয়ে কার্যকর আউটপুট বের করার চেষ্টা করছেন। সরকারের কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে উন্নত করতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিজের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমি যশোর, মাগুরা ও নড়াইল-এই তিন জেলার উন্নয়নে দায়িত্ব নিয়েছি। বেনাপোলে চোরাচালান, শুল্ক ফাঁকি, কাস্টমসের সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। আমি এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তির যুগে বেনাপোলকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু খবর সঠিক, কিছু খবর সঠিক নয়, আবার ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার কারণে কিছু সত্য খবরও চাপা পড়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বন্দর ও কাস্টমস কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যা, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া, ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমানো এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সভায়, বেনাপোল বন্দরের চলমান সমস্য ও নিরশনে মতামত তুলে ধরেন বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি প্রমুখ।
সভায় সংশ্লিষ্টরা বেনাপোল বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কাস্টমস, বন্দর ও বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর ১ ও ২ আসনের উন্নয়ন এবং তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নী এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও যশোর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, সিনিয়র উপদেষ্টা আলহাজ্ব খায়রুজ্জামান মধু, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত সহ বিএনপি ও সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সভায় বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল, শরফুদ্দিন মিয়া, ডেপুটি কমিশনার বায়জিদ হোসেন, সহকরী কমিশনার মুক্তা চৌধূরী, অটল গোস্বামী, রাহাত হোসেন, তওফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা, বন্দর, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা, আমদানি-রপ্তানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্ট ব্যবসায়ী, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাশেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বেনাপোল পৌর বিএনপি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত গাছের রোপণের দৃশ্য ঘুরে দেখেন এবং পৌরগেটে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আলোচনা মঞ্চে বক্তব্য প্রদাণ করেন। পরে, শার্শার উলাশীতে জিয়ার খাল পরিদর্শণ ও বাগআঁচড়া এলাকায় অসুস্থ নেতাকর্মীদের দেখভাল এবং প্রয়াতদের কবর জিয়ারত করেন।
