ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
সারাদেশ

যশোরে সাইবার পুলিশের অভিযানে অনলাইনে প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার, নগদ ১০ লাখ টাকা ও বিপুল আলামত উদ্ধার

প্রতিনিধি

শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

৬ আগস্ট, ২০২৬
যশোরে সাইবার পুলিশের অভিযানে অনলাইনে প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার, নগদ ১০ লাখ টাকা ও বিপুল আলামত উদ্ধার

যশোরে সাইবার পুলিশের অভিযানে অনলাইনে প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার, নগদ ১০ লাখ টাকা ও বিপুল আলামত উদ্ধার

যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে অনলাইনে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি টাকার মালামাল ও অর্থ আত্মসাৎকারী একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় প্রতারণালব্ধ নগদ ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা, বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল আলামত, স্বর্ণালংকার এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা গমের ভূষিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল গত ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে যশোর কোতোয়ালি থানার নাজির শংকরপুর হাজারি রেলগেট এলাকা থেকে মো. মনিরুল ইসলাম (২৫)কে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাত ২টা ৪০ মিনিটে কোতোয়ালি মডেল থানার লিচুবাগান পুরাতন কসবা এলাকায় অভিযান চালিয়ে খালেক সরকার (৩৩)কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মনিরুল ইসলাম পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার নটাবাড়িয়া (খলিফাপাড়া) গ্রামের নুরু মোল্লার ছেলে এবং খালেক সরকার একই উপজেলার দোদারিয়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে।

মামলার বাদী চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনাল-এর স্বত্বাধিকারী মানিক কুমার আগরওয়াল (৪৩)। তিনি আমদানি ও স্থানীয় ট্রেডিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই কয়েকজন প্রতারক নিজেদের কাজী ফার্মস লিমিটেড, যশোর-এর পরিচালক পরিচয় দিয়ে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তারা নিজেদের ম্যানেজার পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করে।

প্রতারকদের নির্দেশনায় ২২ জুলাই দুটি ট্রাকে ২৮ হাজার ১০ কেজি এবং ২৫ জুলাই আরও তিনটি ট্রাকে ৪০ হাজার ৪১০ কেজি গমের ভূষি নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর গাড়ি ভাড়া, সিকিউরিটি মানি ও ভ্যাটের অজুহাতে নগদ, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ধাপে অর্থ আদায় করা হয়।

পরবর্তীতে আরও ৩০ হাজার টাকা ধার চাওয়ায় বাদীর সন্দেহ হলে তিনি ২ আগস্ট সরাসরি কাজী ফার্মস লিমিটেডের যশোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের কোনো অর্ডার দেয়নি এবং প্রতারকদের ব্যবহৃত পরিচয় ও মোবাইল নম্বরও প্রতিষ্ঠানের নয়। তদন্তে আরও জানা যায়, ট্রাক থেকে কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়কেই সব গমের ভূষি খালাস করা হয়েছিল।

পুলিশের ভাষ্য, ভুয়া পরিচয় ও হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া ছবি ব্যবহার করে প্রতারকরা বাদীর কাছ থেকে মোট ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকা মূল্যের অর্থ ও মালামাল আত্মসাৎ করে।

অভিযানে গ্রেফতার খালেক সরকারের হেফাজত থেকে ৭টি মোবাইল ফোন, ২টি ল্যাপটপ, একটি ২৫০ সিসির মোটরসাইকেল, ৫১টি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম, ব্যাংকের চেকবই, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রস্তুতকৃত জাল বিল-ভাউচার, প্রতারণালব্ধ ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা নগদ এবং আনুমানিক দেড় লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে এসব আলামত প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত এবং প্রতারণালব্ধ অর্থে অর্জিত বলে ধারণা করছে পুলিশ।

আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার চাটমোহর এলাকায় আরও একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে চক্রের আরেক সদস্য মো. আবুল বাশারকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৭৭ বস্তা (৩ হাজার ৮৫০ কেজি) গমের ভূষি এবং ১৮৫টি খালি গমের ভূষির বস্তা জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুই আসামিকে ৬ আগস্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন