পণ্য উধাও! কী ছিল? মাদক! ভায়াগ্রা নাকি উচ্চ শুল্কের শাড়ি, থ্রি-পিছ বা কসমেটিক্স? “বেনাপোল বন্দরে সন্দেহজনক পণ্যচালান জব্দ, ঘোষণার সঙ্গে মিলেনি ৩ টনের বেশি খৈল”
প্রতিনিধি
কামাল হোসেন:

পণ্য উধাও! কী ছিল? মাদক! ভায়াগ্রা নাকি উচ্চ শুল্কের শাড়ি, থ্রি-পিছ বা কসমেটিক্স? “বেনাপোল বন্দরে সন্দেহজনক পণ্যচালান জব্দ, ঘোষণার সঙ্গে মিলেনি ৩ টনের বেশি খৈল”
বেনাপোল স্থলবন্দরে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ভারত থেকে আমদানিকৃত একটি খৈলবাহী ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি সরিষার খৈল থাকার কথা থাকলেও তল্লাশিতে পাওয়া গেছে মাত্র ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। এ ঘটনায় পণ্যচালানটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ভারতের একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ট্রাক (নং- ডব্লিউবি-২৫কে-৮৪১৫) গত ২৩ জুন রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে ২৫ জুন সকালে কার্গো টার্মিনাল থেকে ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পথে ট্রাকটি থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) এলাকায় প্রবেশ করে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসকে অবহিত করে।
পরে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নীট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি পাওয়া যায়।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পণ্যচালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে উল্লেখিত মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে যে, উক্ত চালানের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি এক আবেদনে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ট্রাকটি কিংবা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। সিসিটিভি ফুটেস দেখে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের নির্দোশ প্রতিষ্ঠানকে যেন হয়রানি করা না হয়, সে অনুরোধও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক ও ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, “মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। পণ্যচালানের ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত পরিমাণ পণ্য কোথায় এবং কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে? ট্রাকািটতে খৈলের বিপরীতে ঘোষণা বর্হিভূত কী এমন পণ্য ছিল তা সরিয়ে নিতে হলো? মাদক! ভায়াগ্রা নাকি উচ্চ শুল্কের শাড়ি, থ্রি-পিছ বা কসমেটিক্স! তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত আছে কি না, তাও বন্দর এলাকার সিসি টিভি ফুটেসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান করছে কর্তৃপক্ষ।
