বেনাপোলে প্রায় তিন কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ, আটক ৩
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কম্বল, চাদর, ওড়না ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রীসহ একটি কার্গো ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
যশোরের বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কম্বল, চাদর, ওড়না ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রীসহ একটি কার্গো ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, ট্রাকচালক ও হেলপারসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর বেনাপোল বিওপির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজিবি জানায়, যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসির সার্বিক দিকনির্দেশনায় বেনাপোল বাজারের হীরা সুপার মার্কেটের সামনে একটি কার্গো ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১) থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। পরে ট্রাকটি বেনাপোল বিওপিতে নিয়ে বিস্তারিত তল্লাশির সময় এর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৮টি ভারতীয় শাড়ি, ৬৩টি থ্রি-পিস, ৩৮৬টি কম্বল, ২০৮টি চাদর, ৮টি ওড়না এবং ৩৩ হাজার ২২২টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী। এসব পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সেগুলো জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা।
আটককৃতরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার বেশপাড়া গ্রামের বিশ্বজিৎ মুখার্জীর ছেলে ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী (৩৮), যিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত; যশোর সদর উপজেলার বকচর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে ট্রাকচালক মো. মহসিন আলী (৩৪) এবং বাঘারপাড়া উপজেলার বাকডাঙ্গা গ্রামের মো. আজিজুর রহমানের ছেলে হেলপার মো. জাহিদ হাসান (২১)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্যগুলো বেনাপোল থেকে ঢাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে বহন করা হচ্ছিল।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শাড়ি, থ্রি-পিস, কম্বল, চাদর, ওড়না ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য পাচারের প্রবণতা রোধে কঠোর নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সীমান্তে এ ধরনের অভিযান জোরদার থাকবে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত মালামাল ও কার্গো ট্রাকসহ বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
