ঝিকরগাছায় প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণের শিকার, জন্ম দিলেন পুত্র সন্তান # অভিযুক্ত কবিরাজ গ্রেপ্তার, ডিএনএ পরীক্ষার দাবি পরিবারের
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

ঝিকরগাছার পল্লীতে প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণের শিকার, জন্ম দিলেন ফুটফুটে পুত্র সন্তান,,, অভিযুক্ত স্থানীয় কবিরাজ ও ইমাম আব্দুর রহমান আটক
যশোরের ঝিকরগাছায় বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী (২১) ধর্ষণের শিকার হয়ে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় কবিরাজ ও মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের ওই তরুণী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান (৬০) পান খাওয়ানো ও টাকার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
গত অক্টোবর মাসে তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিবন্ধী তরুণী পরিবারের সদস্যদের অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের নাম জানান।
গত ১৮ মার্চ শার্শা উপজেলার নাভারণ পল্লী ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি ফুটফুটে সুন্দর পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশুটিকে নিয়ে পরিবারে অবস্থান করছেন তিনি। তবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও অন্যের সহায়তা প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
তরুণীর মা অভিযোগ করে বলেন,
“আমার মেয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় সবসময় এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াত। সেই সুযোগে প্রতিবেশী আব্দুর রহমান তাকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়। কিন্তু অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো টাকা দিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, থানায় অভিযোগ করতে গেলেও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। পরে সন্তানের জন্মের পর নিরুপায় হয়ে মামলা দায়ের করেন তারা।
এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-২১, তারিখ ১৩ মে ২০২৬।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহমানের আদি বাড়ি খুলনার দৌলতপুর এলাকায়। প্রায় ১৫ বছর আগে একটি মামলার আসামি হয়ে তিনি পরিবারসহ ঝিকরগাছায় এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি ও কবিরাজি করতেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে; সন্তানদের বিয়ে হয়েছে এবং ছেলেরা বিদেশে থাকেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুর রহমানের স্ত্রী। তিনি বলেন,
“পাগলের কথা বিশ্বাস করা যায় না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।”
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহজালাল আলম বলেন,
“প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুর রহমানকে ১৫ মে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
