যশোরের উলাশীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল :

যশোরের উলাশীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। স্থাপন করা হচ্ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামফলক এবং তারেক রহমানের উদ্বোধনী ফলক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী ২৭ এপ্রিল ‘জিয়ার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, আর এতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালপাড় এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রদানের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে প্রধান মঞ্চ। পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের কভারেজের সুবিধার্থে প্রস্তুত করা হচ্ছে পৃথক মিডিয়া মঞ্চ। ইতোমধ্যে স্থাপন করা হচ্ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামফলক এবং তারেক রহমানের উদ্বোধনী ফলক।
এছাড়া খালে নামা-ওঠার সুবিধার্থে অস্থায়ী রেলিং বসানো, মাটি কেটে সিঁড়ি নির্মাণ, আশপাশের অবকাঠামো সংস্কার, ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে প্রাচীর নির্মাণ, পুরনো ভবনের মেরামত ও রং করা, এলাকাজুড়ে সাজসজ্জা এবং সংযোগ সড়কে সলিং বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
উলাশী ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “এত বড় আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।”
স্থানীয় কৃষক মফিজুর রহমান বলেন, “খালটি দীর্ঘদিন ভরাট থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। পুনঃখনন হলে সেচব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে।”
শার্শা উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও আয়োজনের প্রতিটি বিষয় নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।”
এদিকে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা দফায় দফায় এলাকা পরিদর্শন করছেন। নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান, উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “পুনঃখননের মাধ্যমে মৃতপ্রায় খালটি পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে।”
যশোর জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক এলিন সাঈদ উর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে এবং সফরকে ঘিরে সার্বিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর সংস্কার না হওয়ায় খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সরকার এটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছি।”
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে উলাশী-যদুনাথপুর খাল খননের সূচনা করেন। স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক এ উদ্যোগে হাজারো মানুষ অংশ নেন এবং প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয়।
উলাশী গ্রামের প্রবীণ আবদুল বারিক মন্ডল স্মৃতিচারণ করে বলেন, “খনন কর্মসূচির সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে এসে স্কুল মাঠে নামেন। পরে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরে আমার ভাই করিম বকস মন্ডল মেম্বারের মাথায় তুলে দেন। এমনকি তার মাথার টোকাও তিনি নিজে পরে নেন। সেদিন বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালটি পুনঃখনন হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
