নেপালে ১৪ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে বালেন্দ্র শাহ সরকারের যাত্রা
প্রতিনিধি
সীমান্তের খবর ডেস্ক:

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) নেতা বালেন্দ্র শাহ।
নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) নেতা বালেন্দ্র শাহ। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) রাজধানী কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে প্রেসিডেন্ট ভবনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল।
মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়ে শাহ নেপালের তরুণ নেতৃত্বের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে, দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম মাধেসি সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হলেন। মাধেসি জনগোষ্ঠী প্রধানত ভারতের সীমান্তঘেঁষা নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে বসবাস করে এবং দীর্ঘদিন ধরেই তারা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।
শপথ অনুষ্ঠানে বালেন্দ্র শাহকে ঐতিহ্যবাহী নেপালি পোশাকে দেখা যায়। তার পরনে ছিল ট্রাউজার্স ও জ্যাকেট, মাথায় কালো নেপালি টুপি এবং চোখে সানগ্লাস-যা তার স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন হিসেবে আলোচনায় আসে।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন র্যাপার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। ২০২২ সালে কাঠমান্ডু সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে গঠিত আরএসপি দল দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ৫ মার্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের সুযোগ পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রুত সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। বিশেষ করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতায় বহু হতাহতের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা শাহ সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নেপালে দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সংকট, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার এই দেশে একটি বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া, ভৌগোলিকভাবে ভারত ও চীনের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটিতে একের পর এক সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু কোনো সরকারই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি।
১৪ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন
শপথ গ্রহণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ১৪ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও আরএসপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. স্বর্নিম ওয়াগলে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুদান গুরুংকে, যিনি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সময় সক্রিয় ভূমিকার কারণে আলোচনায় এসেছিলেন।
নতুন এই সরকারকে ঘিরে নেপালের জনগণের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বালেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন সরকার কত দ্রুত জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়।
