ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সারাদেশ

ভুয়া পেজ খুলে অনলাইনে সস্তায় ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বিক্রি, ধরা ৪

প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভুয়া পেজ খুলে অনলাইনে সস্তায় ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বিক্রি, ধরা ৪

ভুয়া পেজ খুলে অনলাইনে সস্তায় ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বিক্রি, ধরা ৪

ফেসবুকে ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বিক্রির নামে চলছে অভিনব প্রতারণা। আকর্ষণীয় পেজ খুলে কম দামে ইলিশ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রথমে অগ্রিম টাকা নেওয়া হয়। এরপর ডেলিভারি কোড, ওটিপি কিংবা সার্ভার সমস্যার অজুহাতে দফায় দফায় আদায় করা হয় অতিরিক্ত টাকা। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরই ক্রেতার নম্বর ব্লক করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারকরা।

এভাবে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা করে আসা চক্রটির সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে চক্রটির মূল শিকড় নড়াইলে পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে সেখানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চক্রটির বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সবশেষ গত রোববার নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে। তারা হলেন ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া (২৫), রাতুল হোসেন (২৫) ও শহিদুল শেখ (২৩)। মঙ্গলবার তাদের চাঁদপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১০টি মুঠোফোন, ৪৬টি সিম কার্ড ও ৭৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। জব্দ সিমের মধ্যে দুটি ভারতীয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, একই চক্রের বিরুদ্ধে এর আগে নড়াইলে পৃথক দুটি অভিযান চালানো হয়। গত ২৬ আগস্ট পাঁচজন এবং ২০ আগস্ট আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নুর বলেন, অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশের ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার বিষয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে চক্রটির মূল শিকড় নড়াইলে শনাক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে সেখান থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতারকরা ফেসবুকে ‘চাঁদপুর ইলিশ বাজার’, ‘চাঁদপুর মাছওয়ালা’সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে পেজ খুলত। এসব পেজে চাঁদপুরের তাজা ইলিশের ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা করে এবং ভুয়া ক্রেতার রিভিউ দিয়ে প্রচার করা হতো। এরপর তুলনামূলক কম দামে ইলিশ বিক্রির বিজ্ঞাপন বুস্ট করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হতো।

বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র এবং চাঁদপুরের বিভিন্ন মাছঘাটের নামে তৈরি ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করত চক্রটি। কোনো ক্রেতা বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে ইলিশের অর্ডার করলে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা চাওয়া হতো।

অগ্রিম টাকা পাঠানোর পর শুরু হতো প্রতারণার দ্বিতীয় ধাপ। কখনো ডেলিভারি কোড বা ওটিপি দেওয়ার কথা বলে, আবার কখনো সার্ভারে সমস্যা হয়েছে জানিয়ে ক্রেতার কাছে আরও টাকা দাবি করা হতো। কয়েক দফায় টাকা নেওয়ার পর মুঠোফোন নম্বর ব্লক করে দিত প্রতারকরা।

সম্প্রতি এতিমখানার শিশুদের ইলিশ খাওয়ানোর জন্য অনলাইনে আট কেজি ইলিশের অর্ডার করে প্রতারণার শিকার হন চট্টগ্রামের সংবাদকর্মী মীর মোহাম্মদ আসলাম। প্রবাসীদের পাঠানো টাকা দিয়ে তিনি ইলিশ কিনতে চেয়েছিলেন। পরে ওটিপি ও সার্ভার সমস্যার অজুহাতে বিভিন্ন ধাপে তাঁর কাছ থেকে ১৫ হাজার ৯৮০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

একইভাবে প্রতারণার শিকার হন কুমিল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বসিরূল আলম ভূঁইয়া। ‘চাঁদপুর মাছওয়ালা’ নামের একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয় চার হাজার টাকা। এ ঘটনায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইলিশ বিক্রেতাদের নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতারণা বন্ধ হয়নি।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারি জমাদার বলেন, অনলাইনে ইলিশ কেনার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। চাঁদপুরের তাজা ইলিশ কিনতে হলে সরাসরি মাছঘাটে আসার পরামর্শ দেন তিনি। অনলাইনে ইলিশ কিনতে গেলে প্রতারণার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

শেয়ার করুন