বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্যচালান প্রবেশ থেকে খালাস পর্যন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন
প্রতিনিধি
শহিদুজজামান উজ্জ্বল:

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করতে পণ্যচালান প্রবেশ থেকে খালাস পর্যন্ত সার্বিক প্রক্রিয়া তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করতে পণ্যচালান প্রবেশ থেকে খালাস পর্যন্ত সার্বিক প্রক্রিয়া তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৪ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের ২য় তলার সম্মেলন কক্ষে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপ-সচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রিলিজ অর্ডারসহ বেশ কিছু কার্যক্রম কম্পিউটারাইজড হওয়ায় পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও সময় সাশ্রয়ী হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমদানি-রপ্তানির প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন হয় এবং কাস্টমস, বিজিবি, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিএন্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা এতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিটি ধাপে নজরদারি জোরদার করায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্মেলনে স্ক্রিন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পণ্য আমদানির ধাপসমূহ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, আমদানির প্রথম ধাপ এলসি খোলা। এরপর ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যের তথ্য বাংলাদেশে পাঠানো হয়। সিএন্ডএফ এজেন্ট কাস্টমসে নথি দাখিল করে অনলাইনে এন্ট্রি সম্পন্ন করলে কাস্টমস অনুমোদনের পর পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে।
বন্দরে প্রবেশের পর বিজিবি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এন্ট্রি সম্পন্ন হয়। এরপর ট্রাকগুলো ওজন স্কেলে ওজন করা হয় এবং নির্ধারিত শেড বা ইয়ার্ডে আনলোড করা হয়। পরবর্তীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন সম্পন্ন করে। শুল্ক পরিশোধের পর রিলিজ অর্ডার ইস্যু হলে বন্দর মাশুল পরিশোধ সাপেক্ষে পণ্য খালাস করা যায়। শেষে গেইটপাস ইস্যু করে বাংলাদেশি ট্রাকে পণ্য লোড দিয়ে নির্ধারিত গেইট দিয়ে বের হয়ে যায়।
তবে সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, পণ্য আনলোড ও লোডের সময় কাস্টমস প্রতিনিধির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও জনবল কম হওয়ায় বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত থাকে।
রাজস্ব আহরণের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, গত পাঁচ বছরে বেনাপোল বন্দরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব আহরণ ছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৯ কোটি টাকায়। সর্বশেষ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ধাপে ধাপে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে এবং শিগগিরই দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যাবে।
এসময় বন্দর উপ-পরিচালক কাজী রতনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বেনাপোলের বিভিন্ন প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর সম্পর্কিত সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে।
