ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
সারাদেশ

শার্শার-কলারোয়ার ৫২ বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জোরালো

প্রতিনিধি

আজিজুল ইসলাম:

২৬ এপ্রিল, ২০২৬
শার্শার-কলারোয়ার ৫২ বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জোরালো

যশোরের শার্শা ও পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদজুড়ে দীর্ঘদিনের ৫২ বিলের জলাবদ্ধতা এখন বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।

যশোরের শার্শা ও পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদজুড়ে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এখন বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘৫২ বিল’ নামে পরিচিত ছোট-বড় বিলগুলো বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লাখো কৃষক। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দাউদখালী খাল সংস্কার ও সোনাই নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শার্শার উত্তরাঞ্চলের মাখলা, বনমান্দার এবং দক্ষিণাঞ্চলের ঠেঙামারী, গোমর বিলসহ প্রায় ৫২টি বিল বছরের প্রায় আট মাস পানিবন্দি থাকে। ভারতীয় ইছামতী নদীর জোয়ারের পানি দাউদখালী খাল দিয়ে প্রবেশ করে এসব বিলে জমে থাকে। পর্যাপ্ত নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার শুরু থেকে শীতের শেষ পর্যন্ত জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেয়। ফলে হাজার হাজার একর আবাদি জমি অনাবাদী থেকে যাচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ‘উলশী-যদুনাথপুর’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি রক্ষায় ‘মাখলা-দাউদখালী’ খাল সংস্কারের কাজও শুরু করেন এবং গোগা ইউনিয়নের সেতাই ব্রিজ পর্যন্ত এর উদ্বোধন করেন। তবে তার মৃত্যুর পর প্রকল্পটি আর এগোয়নি, ফলে দীর্ঘ চার দশকেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয়দের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুটি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, শার্শার কায়বা ইউনিয়নের গোমর বিলের আগা খাল থেকে কলারোয়ার চন্দনপুর ইউনিয়নের সোনাই নদী পর্যন্ত একটি সংযোগ খাল খনন করা হলে পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ তৈরি হবে। দ্বিতীয়ত, রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় দাউদখালী খালের মুখে আধুনিক স্লুইস গেট নির্মাণ করলে ইছামতীর জোয়ারের পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নামানো যাবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং অঞ্চলে ব্যাপক কৃষি উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এতে বছরে অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদন সম্ভব, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার টেকসই সমাধানে দ্রুত সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন